কিশোরগঞ্জে করোনা আক্রান্তের গুজব ছড়িয়ে এসআইয়ের চাঁদা দাবি!

1867

কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইনে ইতালি ফেরত প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে গুজব ছড়িয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে।

মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শেখ ইকবাল হোসেন নামের ওই প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়ায় তার এ অভিযোগ সম্বলিত বক্তব্য আপলোড করেন।

সেখানে তিনি জানান, মিঠামইন থানার দুই এসআই তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সেই টাকা না দিলে হাতে হ্যাণ্ডকাপ লাগিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে।

তার এই অভিযোগ সম্বলিত বক্তব্য তোলপাড় সৃষ্টি করে সমাজের সচেতন মহলে। দৃষ্টি কাড়ে পুলিশের ওপর মহলের। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়েছেন।

এদিকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে এ ঘটনাকে দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বললেন স্থানীয় এমপি।

জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ বিকাল ৩টার দিকে মিঠামইন থানার এসআই নজরুল ইসলাম ও এসআই কিরণ উপজেলার ঘাগড়া বাজারে আসেন। এ সময় তারা জানতে পারেন ৭ মার্চ ইতালি থেকে বাজার সংলগ্ন গ্রামের শেখ ইকবাল হোসেন বিদেশ থেকে বাড়িতে এসেছেন।

তখন তারা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে দাবি করে তার নিকট এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন তারা।

এ সময় শোরগোল শুনে এলাকার লোকজন এসে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে এ দুই পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ইকবাল জানান, সব জায়গা থেকে ডাক্তারের রিপোর্ট নিয়েই তিনি বাড়িতে এসেছেন ৮ বছর পর। এর পরও তিনি নিজ গ্রামের বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনেই সময় কাটাচ্ছেন। এখন পুলিশ এ করোনা গুজবকে পুঁজি করে তার নিকট ঘুষ দাবি করছে।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ যুগান্তরকে জানান, ঘটনাটি তিনি শুনে সত্য-মিথ্যা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার বিকালে ঘাগড়া গ্রামের ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনকালে ওই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আজিজুল হককে মিঠামইন থানার ওসি জাকির রাব্বানীকে নিয়ে ঘটনার বিষয় তদন্ত করতে দেখা গেছে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আজিজুল হক যুগান্তরকে জানান, তিনি পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনাটি তদন্ত করতে এসেছেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়া হবে।

একই সময় অভিযোগকারী ইতালি ফেরত শেখ ইকবাল হোসেন এবং তার ছোট ভাই শেখ ইরফান বলেন, তদন্তকারী দল আমাদের বক্তব্যকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। তারা তাদের আস্থাভাজন লোকজনের কাছ থেকে ইচ্ছামতো লিখিত নিচ্ছেন।

স্থানীয় এমপি রাষ্ট্রপতি পুত্র রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক যুগান্তরকে জানান, ওই বিদেশ ফেরত প্রবাসী শেখ ইকবাল হোসেনের ভিডিওটি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন। এ অভিযোগ সত্য হলে এটি খুবই দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক হবে।

এ সময় তিনি উম্মা প্রকাশ করে বলেন, যখন করোনাভাইরাস নামের এই ঘাতক ব্যাধি নিয়ে গোটা পৃথিবী আতঙ্কগ্রস্ত তখন প্রবাসীরা দেশে ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে না থেকে কোনো অবস্থাতেই এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ানো ঠিক হবে না।

আমাদের এসব প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থানকালে ওইসব দেশের বিধিনিষেধ হাড়ে হাড়ে মেনে চলেন।কিন্তু দেশে ফেরার পর এসবের কোনো কিছুই মানতে চান না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here