দিল্লিতে জোর করে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানো এক যুবকের মৃত্যু (ভিডিও)

826

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংঘর্ষের মধ্যে রক্তাক্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় জোর করে জাতীয় সংগীত গাওয়ানো চার ব্যক্তির একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভারত ভাগ্য বিধাতা…..” গান গাইতে গাইতে ভারতেই প্রাণ গেল এক যুবকের।

নিহত ফাইজান উত্তর-পূর্ব দিল্লির কর্দমপুরীর বাসিন্দা। শনিবার দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ফয়জানকে এবং ভিডিওতে দেখতে পাওয়া অন্য ব্যক্তিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়।

ফয়জানের মা বলেন, তাকে এবং অন্যদের জঘন্যভাবে মারধর করা হয়। তাকে লোহার রড দিয়ে মারা হয়েছিল। ওর পা ভেঙে যায়, মারের কারণে তার পুরো শরীর কালো হয়ে যায়। প্রথমে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমার পরিচিত একজন ফয়জানকে চিনতে পেরে আমাকে জানিয়েছিল, আমি হাসপাতালে যাই, সেখানে ওকে না পেয়ে আমি জ্যোতি কলোনির থানায় যাই। ও থানায় ছিল, আমি তাদের (পুলিশ) ছবি দেখালাম, পুলিশ নিশ্চিত করল যে আমার ছেলে ওখানেই আছে। আমি ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম এবং ওকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধও করেছিলাম। পুলিশ ফয়জানকে আমার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। আমি রাত ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম।

তিনি জানান, পরদিন সকালে তিনি আরও দু’জনকে নিয়ে থানায় ফিরে আসলে তাদেরকেও আটকের হুমকি দেয়া হয়।


তিনি বলেন, ফাইজান যখন মারা যাচ্ছিলেন তখন তারা রাত ১১ টার দিকে আমাকে ফোন করেছিল।

পুলিশ ফয়জানকে মুক্তি দেওয়ার পরে পরিবার তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট অল্টনিউজের মাধ্যমে যাচাই করা উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত পাঁচজন ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে রয়েছেন এবং জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন। কয়েকজনকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করা হচ্ছে। একদল পুলিশকে ওই ব্যক্তিদের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে দু’জন ওই ব্যক্তিদের মুখে লাঠি উঁচিয়ে রয়েছে। একজনকে বলতে শোনা যায়, “আচ্ছি তারহা গা…”।

এদিকে দিল্লিতে সহিংসতায় ইতিমধ্যেই ৪২ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসার ঘটনায় ৫ শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here