প্রতিমাসেই বয়স্ক ভাতার টাকা তোলেন মৃত ২৮ ব্যক্তি!

617

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ২৮ মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে তাদের নামে তোলা হচ্ছে বয়স্ক ভাতা। আবার একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনসহ নির্দিষ্ট বয়সসীমার অনেক কম বয়সীদের দেওয়া হচ্ছে বয়স্কভাতা। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হায়দার আলী দীর্ঘদিন যাবত এই অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ইউনিয়ন কমিটির কাউকে বিষয়টি অবগতও করে এবং যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দর আলী এই তালিকা করেছেন। ফলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে একইসঙ্গে বঞ্চিত হচ্ছেন ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত হত দরিদ্র অসহায় ব্যক্তিরা।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঘাটাইলের বয়স্ক ভাতার যে তালিকা নিশ্চিত করেছেন, তাতে দেখা গেছে ইউনিয়নে ভাতা ভোগীর সংখ্যা ৬৩৩ জন। এর মধ্যে ২১১ নম্বরে রয়েছে বিরাহিমপুর গ্রামের আজাহেরের নাম। যিনি মারা গেছেন নয় বছর আগে। একই গ্রামের নার্গিস বেওয়ার নাম রয়েছে তালিকার ১৯ নম্বরে। যিনি মারা গেছেন প্রায় দুই বছর আগে।

এমন ২৮ জনের কেউ বেঁচে নেই অথচ তাদের নামে নিয়মিত ভাতার টাকা উত্তোলন করছে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হায়দার আলী। কে নিচ্ছেন এই টাকা! হিসেব মেলাতে পারছে না মৃতদের স্বজনরা।

মৃত আজাহেরের ছেলে হাফেজ মনির হোসেন জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর ভাতার কার্ড কে নিয়ে গেছে, কোথায় আছে, আমরা কিছুই জানি না। তবে জানতে ইচ্ছে করছে বাবার নামে আসা এ টাকা ব্যাংক থেকে তোলে কে?

নার্গিস বেওয়ার বোন খোদেজা বেগম জানান, আমার বোন মারা যাওয়ার পর ইউপি সদস্য খলিল মিয়া কার্ড নিয়ে গেছেন। এরপর আর কিছুই জানাননি। একই গ্রামের ২১৯ নম্বর তালিকায় থাকা আমিনা মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে।

তার ছেলে জুলহাস জানিয়েছেন, মা যে বয়স্ক ভাতা পেতেন, তা-ই তো জানি না।

শুধু এরাই নন, তালিকায় নাম রয়েছে সখিনা, নবাব আলী, জয়গন বেওয়া, ছাহেরা, আজিরন, জোয়াহের, নবিরন, হামিদ, মান্নান, মাজেদা, উদয় ভানু ও জমিলা খাতুনসহ আরও অনেকের, যারা মারা গেছেন এরইমধ্যে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দর আলী জানান, মৃত ব্যক্তিদের নামে বয়স্ক ভাতার টাকা উঠানো হয় আমি এমনই জানি।

অগ্রণী ব্যাংক ঘাটাইল শাখার ম্যানেজার মো. শামছুল হক, যারা সশরীরে ভাতা বই নিয়ে উপস্থিত হন, তাদের আমরা ভাতার টাকা দিই। এছাড়া কেউ জীবিত আছেন, কিন্তু অসুস্থ, সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান প্রত্যয়ন দিলে সে লোকের টাকাও দিই।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান আমাদের মৃত ব্যক্তির তথ্য ও বই ফেরত না দিলে আমরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি না। মৃত্যুসনদ দেন চেয়ারম্যান। আর ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তদের শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে সব ধরনের ভাতা কমিটির সভাপতি থাকেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি তার অজানা ছিলো। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here